আজকের দুনিয়ায় মানুষ স্বাস্থ্য নিয়া আগের চেয়ে বেশি সচেতন হইছে। আমরা আমাদের সুসাস্থের জন্য খাবারের ক্যালরি কাউন্ট করি, প্রেসার মাপি, কোলেস্টেরল দেখি। প্রয়োজন হলে জিমে যাই, হাটাহাটি করি, ডায়েট করি, ভিটামিন খাই। শরীরের প্রতিটা অঙ্গের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ রাখি, পরীক্ষা করি, ওষুধ তো আছেই। কিন্তু এত স্বাস্থ্যসচেতনতার পরও মানুষ কি সত্যিই সুস্থ বোধ করে? প্রশ্ন করি। এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নাই। সত্য চিকিৎসাবিজ্ঞান মানুষের জন্য বিরাট কল্যাণ নিয়া আসছে। বহু রোগ নিয়ন্ত্রণে আসছে, মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মানুষরে প্রধানত একটা জৈবিক শরীর হিসাবে দেখে। মানুষের রক্ত, হাড়, স্নায়ু, হরমোন, মস্তিষ্ক, জিন সবই আলোচনায় আসে। কিন্তু মানুষের অন্তর, নৈতিকতা, অর্থবোধ, রূহ আর আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক খুব কমই আসে। ফলে আমরা শরীরের রোগ চিনতে শিখছি, কিন্তু আমাদের আসল অসুস্থতা চিনতে পারতেছি না।
একজন মানুষের ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক হইতে পারে, সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে, শরীর শক্তিশালী হইতে পারে, অথচ সে ভিতরে লোভ, অহংকার, ভয়, হিংসা, একাকিত্ব আর জীবনের অর্থহীনতায় ভুগতে পারে। আধুনিক চিকিৎসা এই অবস্থার কিছু অংশকে মানসিক স্বাস্থ্য বলে, কিন্তু কুরআনিক মানবতত্ত্ব আরও গভীর প্রশ্ন রাখে। মানুষের এই ভাঙন কি শুধু মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যের সমস্যা, নাকি তার অস্তিত্বের কেন্দ্র বা অভিমূখ সইরা গেছে? কুরআনের দৃষ্টিতে মানুষ শুধু দেহ না। মানুষ দেহ, নফস, ক্বলব, আকল ও রূহের এক জটিল কিন্তু সমন্বিত সত্তা। এই সত্তার কোনো একটা অংশকে বিচ্ছিন্ন কইরা মানুষের পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। দেহ ক্ষুধার্ত হয়, নফস কামনা করে, ক্বলব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করে, আকল বিচার করে, আর রূহ মানুষরে তার উচ্চতর উৎস ও দায়িত্বের দিকে টানে। আধুনিক সভ্যতার সংকট হইল- সে মানুষের এই সমগ্রতারে ভাঙা ভাঙা অংশে ভাগ করছে। শরীর চিকিৎসকের কাছে, মন মনোবিজ্ঞানীর কাছে, কামনা বাসনা বাজারের কাছে, পরিচয় রাজনীতির কাছে, আর রূহ গেছে নির্বাসনে!
মানুষের জীবনে খাদ্যের প্রয়োজন আছে। খাদ্য দেহরে বাঁচায়, শক্তি দেয়, জীবন টাইনা নেয়। কিন্তু খাদ্য আমাদেরকে শুধু পুষ্টি বিতরণ করে না। খাদ্যের সাথে সংস্কৃতি, শ্রেণি, স্মৃতি, ধর্ম, পরিবার, মর্যাদা, বাজার ও সবশেষে ক্ষমতা যুক্ত হয়। আজকের পৃথিবীতে খাদ্য একটা বিশাল শিল্প, ইন্ডাস্ট্রি। মানুষ ভাবে- সে কী খাইবো বা খাইবো না, কোনটা স্বাস্থ্যকর, কোনটা নামকরা, কোনটা খাইলে মর্যাদ বাড়বো। এইসব ধারণা শুধু পুষ্টিবিজ্ঞান তৈরি করে না, বিজ্ঞাপন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় নীতি, গণমাধ্যম সম্মলিতভাবে এই ধারণাগুলা নির্মাণ করে। আজকে একটা শিশু ক্ষুধা বোঝার আগেই ব্র্যান্ড চিনতে শেখে। একজন মানুষ শরীরের প্রয়োজন বোঝার আগেই বিজ্ঞাপনের ভাষা শিইখা ফেলে। খাবার তখন পেটের ক্ষুধা মেটানোর জিনিস থাকে না, পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদা প্রকাশের উপায় হয়।
বুঝতে হবে- এইখানে ক্ষমতা খুব নীরবে কাজ করে। ক্ষমতা সবসময় নিষেধ করে না, ক্ষমতা আগে মানুষের মনে গোপন বাসনা তৈরি করে। কী সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার! এই ধারণাগুলি মানুষের মধ্যে ঢুকাইয়া দেওয়া হয়। ফলে মানুষ মনে করে, সে নিজেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতেছে। অথচ তার পছন্দ আগেই বাজারের ভাষায় তৈরি হইয়া গেছে! মিশেল ফুকোর বায়োপাওয়ারের চিন্তা আমাদেরকে এই জায়গাটা বুঝতে সাহায্য করে। আধুনিক রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান শুধু আইন দিয়া মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে না। মানুষের দেহ, স্বাস্থ্য, জন্ম, মৃত্যু, খাদ্যাভ্যাস, কাজের ক্ষমতা এবং জীবনযাপনের ধরনও পরিচালনা করে। স্বাস্থ্য তখন কেবল ব্যক্তিগত কল্যাণের প্রশ্ন থাকে না, তা উৎপাদনশীল নাগরিক তৈরির ব্যবস্থাও হয়। তাই সুস্থ মানুষ মানে এমন মানুষ, যে বেশি কাজ করতে পারে, কম ছুটি নেয়, বেশি উৎপাদন করে, নিয়ম মানে এবং বাজারে সক্রিয় থাকে। কিন্তু সে কিসের জন্য বাঁচে, তার জীবন অর্থপূর্ণ কিনা, তার রূহ শান্তিতে আছে কিনা- এইসব প্রশ্ন করপোরেট ব্যবস্থার কাছে জরুরি না!
আধুনিক সভ্যতা রোগের চিকিৎসা করে, আবার রোগভীতিও তৈরি করে। স্বাস্থ্য এখন শুধু প্রয়োজন না, পণ্যও। নতুন ডায়েট, নতুন সাপ্লিমেন্ট, নতুন পরীক্ষা, নতুন সৌন্দর্যচর্চা, নতুন ফিটনেস ব্যবস্থা আজ বাজারে সুলভ। বাজার মানুষরে বলে-, তুমি এখনো যথেষ্ট সুস্থ না, যথেষ্ট সুন্দর না, যথেষ্ট তরুণ না। এই অসম্পূর্ণতার অনুভূতিই বাজারের শক্তি। মানুষ আর নিজের শরীরের সঙ্গে শান্তিতে নাই। তার শরীর সবসময় একটা অসম্পূর্ণ প্রকল্প। ওজন কমাইতে হইবো, পেশি বাড়াতে হইবো, বয়স লুকাইতে হইবো, ত্বক বদলাইতে হইবো, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে হইবো। শরীর আর আমানত থাকে না, শরীর হয়ে যায় প্রদর্শনীর বস্তু।
কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি এই অহংকার ভাঙে। কুরআন মানুষরে শরীরের যত্ন নিতে বলে, কিন্তু শরীরকে চূড়ান্ত সত্য বানায় না। জীবন মূল্যবান, কিন্তু অনন্ত না। স্বাস্থ্য নিয়ামত, কিন্তু চূড়ান্ত না। চিকিৎসা প্রয়োজন, কিন্তু মানুষের মুক্তির শেষ উৎস না। কুরআন খাদ্যের আলোচনায় শুধু হালাল আর হারামের আইনি সীমা দেয় না, ‘তাইয়্যিব’ শব্দটা ব্যবহার করে। এই শব্দের অর্থ শুধু বৈধ না, এইটা ভালো, পবিত্র, কল্যাণকর, সুস্থ ও মানসম্মত খাবার বোঝায় । এইখানে খাদ্যের একটা গভীর নৈতিক ধারণা পাওয়া যায়। খাবার কোথা থেইকা আসছে, কীভাবে উৎপাদিত হইছে, কার শ্রম এইটাতে আছ। আবার এইটাতে কোনো মানুষের হক নষ্ট হইছে কিনা, প্রকৃতির ক্ষতি হইছে কিনা, খাবার দেহের জন্য কল্যাণকর কিনা এইসব প্রশ্নও তাইয়্যিব ধারণার মধ্যে পাওয়া যায়। একটা খাবার আইনের চোখে হালাল হইতে পারে, কিন্তু যদি তা শোষণ, অপচয়, লোভ এবং মানুষের ক্ষতির ব্যবস্থার অংশ হয়, তাহলে তার নৈতিকতা নিয়া প্রশ্ন থাকেই।
কুরআনের খাদ্যনীতি তাই কেবল পেটে কী ঢুকল, সেই প্রশ্ন না বরং কীভাবে উপার্জন করা হইল, কীভাবে ভাগ করা হইল, কতটুকু খাওয়া হইল, কৃতজ্ঞতা ছিল কিনা, গরিবের অধিকার মনে রাখা হইল কিনা- এইসবও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই কারণে কুরআন খাইতে বলে কিন্তু অপচয় করতে বারণ করে । আল্লাহর নিয়ামত গ্রহণ করতে বলে কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করতে বারণ করে। রিযিক ভোগ করতে বলে কিন্তু রিযিকদাতারে স্মরণ রাখতে বলে। আধুনিক ভোগবাদ বলে, বাসনা বাড়াও। কুরআন বলে, বাসনাকে শাসন করো।
মানুষের অনেক ধরণের ক্ষুধা আছে পেটের ক্ষুধা, নফসের ক্ষুধা স্বীকৃতির ক্ষুধা, ক্ষমতার ক্ষুধা, ভোগের ক্ষুধা, প্রশংসার ক্ষুধা, অন্যের চেয়ে বড় হওয়ার ক্ষুধা। কত রকমের ক্ষুধা! মজার ব্যাপার হইলো পেটের ক্ষুধা খাবারে মেটে কিন্তু নফসের ক্ষুধা মেটানো হইলেও খালি বাড়ে। এই জন্য আধুনিক মানুষ অনেক ভোগ করেও তৃপ্ত হয় না। তার ঘর জিনিসে পূর্ণ, কিন্তু অন্তর খালি। সে খাবারের ছবি তোলে, কিন্তু খাবারের নিয়ামত অনুভব করে না। সে শরীর গড়ে, কিন্তু চরিত্র গড়ে না। সে দীর্ঘ জীবন চায়, কিন্তু সেই জীবন কেন বাঁচবে তার অর্থ জানে না।
রূহের ক্ষুধা আলাদা। রূহ সত্য চায়, অর্থ চায়, স্মরণ চায়, সম্পর্ক চায়, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন চায়। এই ক্ষুধা বাজারের পণ্য দিয়া মেটে না। আনন্দ বিনোদন দিয়া কিছু সময় ভুলাইয়া রাখা রাখা যায় কিন্তু সে আবার ফিরে আসতে চায়। মানুষ যখন রূহের ক্ষুধারে চিনতে পারে না, তখন সে সেই শূন্যতা খাবার, ভোগ, কাজ, যৌনতা, ক্ষমতা, সামাজিক যোগাযোগ বা নানা আসক্তি দিয়া পূরণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু শূন্যতা আরও গভীর হয়। এইখানে রোজার শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রোজা শুধু না খাওয়ার অনুশীলন না, ক্ষুধারে নতুন অর্থ দেওয়ার শিক্ষা। রোজা মানুষরে দেখায়, আমি ক্ষুধার দাস না। আমি নফসের দাবি আর দেহের প্রয়োজনের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। আমি খাবারের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু খাবার আমার প্রভু হইতে পারে না। রোজা খাদ্যরে অস্বীকার করে না বরং খাদ্যের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ঠিক করে।
কুরআনিক মানবতত্ত্বে স্বাস্থ্য মানে শুধু নীরোগ থাকা না। স্বাস্থ্য মানে ভারসাম্য, সংযম, পরিচ্ছন্নতা, কৃতজ্ঞতা, ন্যায়, সম্পর্ক ও অন্তরের ধীর স্থিরতা। একজন মানুষ শারীরিকভাবে দুর্বল হইলেও আধ্যাত্মিকভাবে সুস্থ হইতে পারে। আবার শরীরের দিক থেইকা শক্তিশালী হইলেও নৈতিকভাবে গভীরভাবে অসুস্থ হইতে পারে। কুরআন ক্বলবের রোগের কথা বলে। সন্দেহ, কপটতা, অহংকার, হিংসা, সত্য প্রত্যাখ্যান- এইগুলি অন্তরের রোগ। এই রোগগুলি শরীরের রোগের চেয়ে ভয়াবহ, কারণ মানুষ তখন নিজের অসুস্থতাই বুঝতে পারে না। আধুনিক সভ্যতা শরীরের দৃশ্যমান ব্যথারে গুরুত্ব দেয়, কিন্তু রূহের রোগের আলামত বুঝতে পারে না। তাই মানুষ ওষুধ খায় , কিন্তু সুস্থ হয় না । পরামর্শ পায়, কিন্তু দিকনির্দেশনা পায় না। দীর্ঘ জীবন পায়, কিন্তু জীবনের অর্থ পায় না ।
কুরআনিক মানবতত্ত্ব আধুনিক বিজ্ঞানকে বাতিল করে না। বরং মানুষের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানরে তার যথাযথ জায়গায় রাখে। চিকিৎসাবিজ্ঞান শরীরের রোগ বুঝবে, পুষ্টিবিজ্ঞান খাদ্যের গুণাগুণ বলবে, মনোবিজ্ঞান আচরণ ও মানসিক কষ্ট ব্যাখ্যা করবে। কিন্তু মানুষ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুধু এই শাস্ত্রগুলি দিতে পারে না। মানুষের মধ্যে রহস্য আছে, স্বাধীনতা আছে, নৈতিক দায় আছে, অদৃশ্যের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। সে মাটি থেকে তৈরি, আবার তার মধ্যে রূহ দেওয়া হইছে। সে ক্ষুধার্ত প্রাণী, আবার সত্যের সন্ধানীও। সে মৃত্যুবরণ করে, আবার মৃত্যুর পরের জবাবদিহির জন্য বাঁচে। এই দৃষ্টিতে খাদ্য আমানত, শরীর আমানত, স্বাস্থ্য আমানত, জীবনও আমানত। তাই সুস্থতার অর্থ হইল নিজের পূর্ণ অস্তিত্বরে সঠিক অনুপাতে রাখা। শরীররে তার অধিকার দেওয়া, কিন্তু শরীরের দাস না হওয়া। নফসের প্রয়োজন বুঝা, কিন্তু নফসরে শাসক না বানানো। রূহের ডাক শোনা, ক্বলবরে পরিষ্কার রাখা, খাদ্যরে নিয়ামত হিসাবে গ্রহণ করা এবং দায়িত্বের সাথে ভোগ করা।
আধুনিক সভ্যতার স্বাস্থ্যসংকট শুধু হাসপাতালের সংকট না, খাদ্যব্যবস্থার সংকটও না। এইটা মানুষকে ঠিক মতো ডিফাইন না করতে পাড়ার সংকট। মানুষরে যখন শুধু দেহ মনে করা হয়, তখন খাদ্য হয় জ্বালানি, স্বাস্থ্য হয় কর্মক্ষমতা, চিকিৎসা হয় বাজার, আর জীবন হয় দীর্ঘায়িত জৈবিক অস্তিত্ব। কিন্তু কুরআন মানুষরে এর চেয়ে বড় কিছুর দিকে ডাকে। কুরআন আমাদের মনে করায়, মানুষ দেহ বহন করে, কিন্তু মানুষ শুধু দেহ না। তার মধ্যে নফস আছে, ক্বলব আছে, আকল আছে, রূহ আছে। তার ক্ষুধা আছে, রোগ আছে, আবার আরোগ্যের পথও আছে। এই কারণে আগামী দিনের স্বাস্থ্য কর্মশালায় শুধু নতুন ওষুধ, নতুন ডায়েট বা নতুন প্রযুক্তির আলোচনা যথেষ্ট না। প্রয়োজন মানুষকে নতুনভাবে ডিফাইন করা। এমন এক মানুষ যে নিজের দেহকে ভালোবাসবে কিন্তু পূজা করবে না, খাদ্য গ্রহণ করবে, কিন্তু ভোগের দাস হবে না, চিকিৎসা নিবে , কিন্তু মৃত্যু ভুলে যাবে না। এবং সর্বপরি রূহের সুস্থতাকে অধিক গুরুত্ব দিবে। আধুনিক সভ্যতার বিপরীতে কুরআনিক মানবতত্ত্বের সবচেয়ে বড় প্রস্তাব এইখানেই- মানুষরে আবার পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখা।
রেফারেন্স:
কুরআন: ২:১৬৮, ২:১৭২, ৭:৩১, ১৭:৭০, ২৩:৫১, ২৬:৮৮–৮৯, ৯১:৭–১০
Malik Badri, Contemplation: An Islamic Psychospiritual Study
Seyyed Hossein Nasr, Man and Nature
Michel Foucault, The History of Sexuality, Vol. 1
Ivan Illich, Medical Nemesis
Byung-Chul Han, The Burnout Society
Leave a comment