পিঞ্জর। এইসব পাখিবন্দী শিকল খুলে দিয়েছি।
যে তা- সে তাই হোক।
মনের ভাষা ফুটুক আজাদ বাতাসে
আকাশজুড়ে উড়ুক মজলুম পারাবত!
*
বলো- গন্ধফুল। কে তোমাকে বিলায়?
আর উজাড় করে জিকির করে গোপনে?
সে কি কামেল মুসাফির? সে কি মিসকিন?
দেখো তার রুহ ধরে নেমে আসে
শান্তির ফজর।
*
আমাদের গ্রাম আজ ঘাসের জায়নামাজ।
যেন দূরের খলিফা এলো ঘোড়া চড়ে।
তার সিনাতে আবু বকরের ঈমান।
সেই দেখায়- আমি বাতাসে উড্ডীন
একে একে খুলে পড়ছে
ফিতনা ও ফাসাদ।
*
অন্ধ চোখ কবে খুলে যায় সত্য-দরবেশ?
কবে কোন আগুনের মায়ায় গলে যায় পাথর?
আমরা তো পথ হারানো দূরের কাফেলা।
বসে আছি ফকির সেজে পথের ধারে।
ডাক শুনে কবে ছুটে আসবে
আমার হৃদয়ের ভাই।
*
বশ্যতার ভেতর বসে থাকো।
দেখো রক্তমাখা আমগাছ,
ইংরেজ থেকে আরো ইংরেজ
উড়ে আসে পলাশীর মাঠে।
তোমাদের কি অবাক ইতিহাস?
সেখানে হারানো তরবারি খোঁজে
বাংলার নবাব?
অনেক ডাকাত ছিল সীমানা সাকিনে।
অনেক বন্দুক ছিলো ভাষার মিনারে।
আমরা লুকিয়ে থাকতাম মায়ের কবরে
আর বলতাম- সিরাজ তুমি
হিংসার শিকার।
*
রক্ত। এইসব হারাকিরি থেকে
বেরিয়ে দেখছি- কুয়াশাখিলান
আর ইয়াতিম মাছেদের সাঁতার।
তাই দেখে তুমি চিঠি লেখো আর
মেরু মাছেদের দাওয়াত দাও।
আজ কলাপাতায় কি জিকির করে
সুলাইমান নবীর পিপড়া?
দেখো ব্রিজ খুলে
আসে জল-ঘোড়া, তারামাছ।
তার গন্ধ শোঁকো, দেখো কানকোয়
ঝাপটায় কতো সুমেরীয় সকাল!
*
আমি হযরত সেজে বসে আছি
যুদ্ধ-কাতর ময়দানে।
দেখছি আবরাহার হাতি,
আবরাহার পতন।
রামাদানের সতের তারিখ
মুখোমুখি বাতিল আর
দেখছি ঘোড়ার জিন থেকে
মাটিতে পড়ছে
উমাইয়া বিন খালাফ!
*
তোমার কি শুধু তরবারিলেখা?
তোমার কি শুধু সীমান্ত কাঁটাতার?
এসব সরাও, কবরে পৌঁছাও।
আজ ঝুলন্ত মিম্বর থেকে ভেসে আসে
সুরাহ হাশরের- অবাক আয়াত !
আমি কবুল বলি, আমি কবুল বলি
সবুজে সাজাই আমার পাথরের মাঠ।
*
আমার কুনিনে তুমি রূপসী মাছ।
তোমার আগমন দূর সমুদ্রবাহিত।
এসেছো সন্তান জন্ম দিতে
করো জল-গান, দাও চিৎ-সাঁতার ।
তোমার চোখে লাইলী রূপ
শুধু বুঝি- আমি মজনু সমান।
আহা! এমন মধুর যোগাযোগ
হয়নি কোনোকালে।
আমার দু’চোখ ভরে নামে কোন জান্নাত!
*
বলো কোন ভাষায় সকাল উঠে ঘুমের বারান্দায়?
বলো কে বাজায় বাঁশি অচিন রাখাল সেজে?
আমি তো গভীর সিজদায় আছি শীত-তাবুতে।
তুমি কি দাওনি দরজায় খিল আমপারা শেষে?
এক চুমুকে কি শেষ হয়নি পিপাসার জল?
ধরো ধরো আমাকে ধরো।
সেবা করো তপ্ত, তন্দুর রুটিতে।
*
ঘুম ভাঙার পর আরো ঘুমের প্রার্থনা।
খালিছ হৃদয়ে চাই গোলাপের দরবার ।
দিকে দিকে মৌ ও মৌমাছি
পাখি করে বিবাহের আয়োজন।
যেন একটি না-দেখা স্বপ্ন
যাকে চাই সেই মেলে ধরেছে
কাবিনের পাজামা!
*
হায় তাহমিন, তুমি কি পাতালের দিলশাদ।
আমাকে কি কোনোদিন দেবে না ছুঁতে?
এই যোগাযোগাহীন পৃথিবীতে
আমি বারবার তোমাকে হারাই।
যেন আমি গুলিবিদ্ধ ফরহাদ।
মনজুড়ে রক্ত-ভায়োলিন, বিষাদ।
*
আমি তোমার কোলেই ঘুমিয়ে থাকবো
ঘুমরানি- আমার উষ্ণ বিছানা-কুমারী।
শুধু চাইবো শীতের মাঠ, ছায়া-শুক্রবার।
যেন ব্রিজদোলা আর সাইকেলে নদীপার।
দেখবো ঘোড়াশাল আর মেথিকান্দা স্টেশন
দেখবো হলুদ দাগের বাইরে পাখির মিলাদ
পালকের উম থেকে বেরিয়ে আসছে
মায়ের দোয়া, মেরুন রুমাল ।
Leave a comment